৯৫ তম জন্মদিনেকবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

 সৌরভ দত্ত : কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ১৯ অক্টোবর ১৯২৪ সালে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভুত আধুনিক বাংলা কবিদের অন্যতম। উলঙ্গ রাজা তার অন্যতম বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থ লেখার জন্য তিনি ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। কবি পশ্চিমবঙ্গে বাংলা আকাদেমির সাথে দীর্ঘকাল যুক্ত।
১৯৫১ সালে যোগ দিয়েছিলেন ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায়। দীর্ঘ সময় তিনি ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। নীরেন্দ্রনাথের প্রথম কবিতার বই ‘নীল নির্জন’, প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫৪ সালে। এরপর প্রকাশিত হয়েছে তার লেখা ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘নিরক্ত করবী’, ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’, ‘আজ সকালে’সহ অসংখ্য কবিতার বই। সাহিত্য অ্যাকাদেমি পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিয়ে সম্মানিত করেছিল।
তার লেখা ‘উলঙ্গ রাজা’ কবিতায় সমান্ততান্ত্রিক জমিদার জোতদার সমাজ ব্যবস্থাকে তীব্র কটাক্ষের বাণে বিদ্ধ করেছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। কবিতার শেষ লাইনে লেখা ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়’ লাইনটি আজও মানুষের মুখেমুখে।
উলঙ্গ রাজা’ এই কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৮ সালে ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কার পান কবি নীরেন্দ্রনাথ। তা ছাড়াও একগুচ্ছ পুরস্কার রয়েছে তার ঝুলিতে। ১৯৫৮ সালে ‘উল্টোরথ পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে ‘তারাশঙ্কর স্মৃতি’ ও ১৯৭৬ সালে ‘আনন্দ শিরমণি’ পুরস্কার পান কবি। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সাম্মানিক ডি. লিট প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিয়ে সম্মানিত করেছিল।
অমলকান্তি আমার বন্ধু,
ইস্কুলে আমরা একসঙ্গে পড়তাম।
রোজ দেরি করে ক্লাসে আসত, পড়া পারত না,
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে
এমন অবাক হয়ে জানলার দিকে তাকিয়ে থাকতো যে,
দেখে ভারী কষ্ট হত আমাদের।
আমরা কেউ মাষ্টার হতে চেয়েছিলাম, কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল।
অমলকান্তি সে সব কিছু হতে চায়নি।
সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল !
ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক রোদ্দুর,
জাম আর জামরূলের পাতায়
যা নাকি অল্প-একটু হাসির মতন লেগে থাকে।

কলকাতার যীশু, অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল, উলঙ্গ রাজার মতো কবিতার স্রষ্টা নীরেন্দ্রনাথ।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আর বেঁচে নেই। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ধ্রুবতারা নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তার সৃষ্ট ‘অমলকান্তি’র মতোই যেন রোদ্দুর হয়ে গেলেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে ৯৪ বছর বয়সে চিরপ্রস্থান ঘটলো এই কিংবদন্তীর। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অমল কান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল, পারেনি।
“আর্যপত্র “পক্ষ থেকে বাংলা অ্যাকাদেমি সভাঘরে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জন্মদিন পালন হয় ।
কবি শ্যামল কান্তি দাস কে “নীরেন্দ্রনাথ পুরষ্কার” ২০১৯-এ সম্মানিত করেন শাঁওলী মিত্র , উপস্থিত ছিলেন শঙ্খ ঘোষ ।
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী লেখা কবিতা ও পাঠ করেন মৃদুল দাশগুপ্ত, দীপক লাহিড়ী, চিত্রা লাহিড়ী, চৈতালী চট্টোপাধ্যায়, অংশুমান কর,পীতম ভট্টাচার্য, মেধা নাগ,শোভন সুন্দর বসু, রঞ্জন সেনগুপ্ত,সুমন্ত্র সেনগুপ্ত ।

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *