স্বমহিমায় বিজয় মালিয়া

সৌরভ দত্ত : ওভালের মাঠে অনেক কিছুই প্রথমবার ঘটল। যার মধ্যে অন্যতম বিজয় মালিয়ার ঘটনাও। না, তাঁর স্টেডিয়ামে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দেখতে যাওয়া নয়। বিরল ঘটনাটি ঘটল ম্যাচ দেখে বেরনোর সময়। বিরাট কোহলিদের জয় দেখে বেরিয়ে আসার পরই ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের রোষের মুখে পড়লেন বিজয় মালিয়া। স্টেডিয়ামের বাইরে স্লোগান উঠল ‘বিজয় মালিয়া চোর হ্যায়’।
এদিন সাদা শার্ট এবং হালকা নীল রঙের ব্লেজার গায়ে হাজির হয়েছিলেন স্টেডিয়ামে। প্রবেশের আগে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মালিয়া বলেন, ম্যাচ উপভোগ করতেই মাঠে এসেছেন তিনি। পরে গ্যালারিতে তাঁর সঙ্গে ছেলে সিদ্ধার্থ মালিয়াকেও দেখা যায়। এর আগেও ইংল্যান্ডে টিম ইন্ডিয়ার ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা গিয়েছিল এই বিজনেস টাইকুনকে। এমনকী কোহলিদের একটি অনুষ্ঠানেও পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছিল। তবে এদিন নিজের প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি মালিয়া।
সাদা শার্ট এবং হালকা নীল রঙের ব্লেজার গায়ে হাজির হয়েছিলেন ওভালে। প্রবেশের আগে সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে মালিয়া বলেন, ম্যাচ উপভোগ করতেই মাঠে এসেছেন তিনি। ছেলে সিদ্ধার্থ মালিয়াকে নিয়ে ভারতীয় ড্রেসিংরুমের কাছাকাছিই বসেছিলেন ন’হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপির মামলায় অভিযুক্ত কিংফিশার এয়ারলাইন্সের মালিক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় তাঁদের ছবি। ফলে কারও জানতে বাকি থাকে না, যে মাঠে হাজির মালিয়া। ম্যাচের পর খানিকটা দেরি করেই বৃদ্ধা মাকে নিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর হয়তো ধারণা ছিল আশপাশ ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু টিম বাস তখনও ছাড়েনি বলে শ’খানেক ভারতের সমর্থক অপেক্ষা করছিলেন স্টেডিয়ামের বাইরেই।
মালিয়াকে দেখামাত্র চিৎকার শুরু করেন তাঁরা, ‘চোর হ্যায়, চোর হ্যায়।’ কেউ চেঁচাতে থাকেন, ‘মোদি আসছে আপনাকে ধরতে।’ মালিয়া এই চিৎকারে হকচকিয়ে যান। কিন্তু স্বভাবসিদ্ধভাবেই ভাঙলেও মচকান না তিনি। ভিড়ের মধ্যে তিনি বলতে থাকেন, “ধাক্কাধাক্কিতে মায়ের যাতে আঘাত না লাগে, সেটা নিয়েই আমি বেশি চিন্তিত।” সমর্থকদের চাপে গাড়িতে উঠতেও সমস্যায় পড়েন তিনি। শেষমেশ ওভলের নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে কোনওক্রমে গাড়িতে তুলে দেয়। স্যুট-বুট পরা মালিয়া ম্যাচে দেখে ‘চোর’ অপবাদ নিয়েই সেখান থেকে বিদায় নিলেন।

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *