সব্যসাচী বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে তৃণমূল

সৌরভ দত্ত : দলের মধ্যে কিছুটা বিপাকে পড়লেও, দিনভর প্রচারের আলো টেনে রেখেছিলেন নিজের দিকে৷ সোমবার বিকেল নাগাদ বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ঘরে সাংবাদিকদের নিয়ে ঢুকেই পড়লেন মেয়র সব্যসাচী দত্ত৷ দু’জনে পাশাপাশি বসে সাংবাদিক সম্মেলনও করলেন৷ আর সন্ধে গড়াতে জানা গেল, মেয়রের বিরুদ্ধে দ্রুতই অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছেন কাউন্সিলররা৷ দু-একদিনের মধ্যেই আইননুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তকে নিয়েই ভোটের আগে থেকে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল তৃণমূলের অন্দরে৷ তৃণমূল ত্যাগী বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে সদ্ভাব, নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ করে লুচি-আলুর দম খাওয়ানোর জন্য কম ধাক্কা পোহাতে হয়নি সব্যসাচীকে৷ ভোটের আগে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে সব্যসাচীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে বোঝাতে হয়েছিল, দলের একজন বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবেই থাকছেন বিধাননগরের মেয়র৷
ভোট শেষ হতে ফের তাঁর দলত্যাগের জল্পনা উসকে উঠেছে৷ খুব কম সময়ের মধ্যে নানা ওঠাপড়ায় দলের আরও বিরাগভাজন হয়েছেন সব্যসাচী দত্ত৷ তবে একইসঙ্গে তাঁর একদল অনুগামীকেও দেখা গিয়েছে, মেয়রের পাশে থাকতে৷ সোমবার সকালে বিধাননগর পুরসভার বৈঠকের পর পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে৷ মনে করা হচ্ছিল যে, এবার বোধহয় সব্যসাচী-বিয়োগ ঘটেই যাচ্ছে তৃণমূলে৷ কিন্তু অকুতোভয় সব্যসাচী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি মেয়র পদ থেকে সরবেন না৷ সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হতে পারে৷ যদিও তাতে আইনি বাধা আছে৷ পুর আইন অনুযায়ী, মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে তাঁকে পদচ্যুত না করে প্রশাসনিক ক্ষমতা খর্ব করা যায় না৷ আবার অনাস্থা এনে তৃণমূল হেরে গেলেও তা দলের পক্ষে ব্যুমেরাং হবে, সেকথাও ভাবতে হচ্ছে শাসকদলকে৷

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *