শুটিং চলছে ‘ও বন্ধু আমার’ ছবির

আনন্দ সংবাদ:-শুটিং চলছে সঞ্জয় দাসের পরিচালনায় ‘ও বন্ধু আমার’ ছবির।ছবির কাহিনি চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন বেথুন বেরা।ছবির সংক্ষিপ্ত কাহিনি এরকম-গল্পের নায়কের নাম আদি এবং নায়িকা রুহী। গল্পের শুরুতেই কিছু বাজে লোক রুহীকে আক্রমণ করে। নায়ক আদি তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে কিন্তু তার ফাঁকেই কোনও একজন গুন্ডা লোহার রড দিয়ে রুহী’র মাথায় আঘাত করে। রুহী সেন্সলেশ হয়ে যায়। আদি তাকে নিয়ে হসপিটাল যায়। সমস্তকিছু পরীক্ষা করে ডক্টর জানান মাথায় জোরে আঘাত লাগার কারণে তার মেমরি লশ হয়ে গেছে। সে কথা বলতে পারছেনা, কাউকে চিনতে পারছেনা। তখন আদি রুহী’র বাবা-মা’য়ের সাথে কথা বলে ঠিক করে যে যতদিন না রুহী সুস্থ হয়ে উঠছে ততদিন আদি তার কাছে থেকে তার সেবা করবে। এরপর নায়িকার চরিত্রে এক চমকপ্রদ মোড় আসে। আদির যত্নে সে শারীরিক ভাবে যখন সুস্থ হয়ে উঠছে ধীরে ধীরে তখন আদির কাছ থেকে সে মোবাইল ব্যবহার করা’টা শেখে। সেটাই হয় সবচেয়ে বড় ক্ষতি। রুহী ধীরে ধীরে সুস্থ হতে হতে তার বাবা-মা’কে মনে পড়ে যায় কিন্তু আদি’কে মনে পড়েনা। সে আদি’কে বাড়ির অন্যান্য পাঁচজন লোকের মতোই ভাবে। তাই আদি তার খুব কাছাকাছি এলে রুহী একটু বিরক্তি প্রকাশ করে। এরপর যখন জানতে পারে আদির সাথে বাড়ির লোক রুহীর বিয়ের ঠিক করেছে তখন সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়না। যখন ফিরে আসে তখন সে বিয়ের সাজে ফেরে এবং সঙ্গে থাকে তার সদ্য বিয়ে করা স্বামী। বাবা-মা মেনে নিতে অস্বীকার করে। কিন্তু আদি রুহী’র বাবা-মা কে বোঝায় তাদের মেনে নেওয়ার জন্য এবং আদি জানায় যেদিনে তার আর রুহী’র বিয়ে হওয়ার কথা ছিল সেইদিনই ওদের রিসেপশন করবে এবং সমস্ত দায়িত্ব আদি নিজে নেবে। যথারীতি তাদের রিসেপশন হয়। আদির এক বন্ধু হলো কেষ্ট। তার শখ ছিল সবকিছু ভিডিও রেকর্ড করা। সে যখন বুঝতে পারে আদি আর রুহী’র যে দূরত্ব’টা তৈরি হয়েছে তা আর মেটা সম্ভব নয় তখন সে শেষ চেষ্টা করে দেখে একবার। তার তুলে রাখা সমস্ত ভিডিও সে বিয়ে বাড়িতে টিভি’তে চালিয়ে দেয়। টিভি থেকে মেইন স্ক্রিনে রুহী আর আদির সমস্ত ঘটনা একটা একটা করে ফ্ল্যাস ব্যাকে ফুটে ওঠে। তাদের কলেজে কিভাবে দেখা হয়েছিল, কিভাবে তারা একে অপরের প্রেমে পড়েছিল, কিভাবে তারা একে অপরের বাড়িতে রাজি করিয়েছিল সমস্ত কিছু দেখতে দেখতে একটা সময় দেখা যায় প্রথম দৃশ্যে যেভাবে রুহীর মাথায় আঘাত লেগেছিল সেই দৃশ্য’টা হয়। সেটা দেখার পর রুহী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। আবার মাথায় আঘাত পায়। যখন জ্ঞান ফেরে তখন তার আদি’কে মনে পড়ে যায় কিন্তু তার স্বামী’কে আর চিনতে পারেনা। সঙ্গে সঙ্গে সে ছুটে আদির কাছে যেতে চায় কিন্তু আদি অনেক আগেই সেখান থেকে বেরিয়ে গেছে জানতে পেরে রুহী পাগলের মতো ছুটতে ছুটতে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। অনেক খোঁজার পর আদিকে দেখতে পায়। যখন আদির দিকে রুহী আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে হঠাৎ মাঝখানে এসে দাঁড়ায় রুহীর স্বামী। গুন্ডারা এসে রুহী এবং আদিকে ঘিরে ধরে। তখন রুহীর স্বামী এক এক করে বলতে থাকে এবং ফ্ল্যাশ ব্যাকে দেখাতে থাকে তার সাথে রুহীর বাবার শত্রুতা ছিল বিজনেস সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে, তাই সে রুহী’কে ফাঁসানোর টার্গেট করে তার কার্যসিদ্ধির জন্য। প্ল্যান ফুলি রুহীর মাথায় আঘাত করে। তারপর যখন রুহী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে তখন তার সাথে প্রেমের নাটক করে এবং বিয়ে করে। সমস্ত ঘটনা বলার পর শত্রু’কে বাঁচিয়ে রাখতে নেই বলে একটা ছুরি দিয়ে আদি’কে মারতে যায়। তখন গুন্ডাদের কাছ থেকে একটা বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে রুহী তার স্বামী’কে গুলি করে। স্বামী ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তারপর রুহী আদিকে জড়িয়ে ধরে। আদি’কে সে বলে যে ‘এতদিনে আদি বুঝিয়েছে সে রুহী’কে কত ভালোবাসে। কিন্তু আজ রুহী তাকে বলবে সে তাকে কতটা ভালোবাসে।’ রুহী একটা একটা করে কথা বলতে বলতে হঠাৎ দেখে আদি আর উত্তর দিচ্ছে না, তখন সে বুঝতে পারে তার স্বামী মরার আগে আদির পিঠে ছুরি’টা মেরে দিয়েছে এবং আদি তার সমস্ত কথা শোনার আগেই মারা গেছে। তখন রুহী স্তব্ধ হয়ে যায়, শুধু তার অঙ্গভঙ্গি’তে প্রকাশ পায় সে কি হারালো, সে কতটা একা হয়ে গেল।অভিনয় করছেন-মিট,ঋত্বিকা সেন,মৌসুমী সাহা, অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুরাধা রায়,সাব্বির আলি, সুপ্রিয় দত্ত, খরাজ মুখোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী প্রমুখ। অঞ্জন-জয়-এর সঙ্গীত পরিচালনায় গান গাইছেন-কুমার শানু, পলক মুছাল,রাজ বর্মন,জুবিন গর্গ,আমান ত্রিখা।প্রযোজনায় এম কুমার।

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *