যাঞ্জসেনী চ্যাটার্জীর সাংবাদিক সম্মেলন

৮ ই মে কোলকাতা প্রেসক্লাবে আমাদের সবারই চিরপরিচিতা অভিনেত্রী সোমা দে এবং তাঁর প্রতিভাসম্পন্না কন্যা যাঞ্জসেনী চ্যাটার্জী এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন। যাঞ্জসেনী চ্যাটার্জী একাধারে ভারতনাট্যম্ শিল্পী এবং গবেষক।শুধুমাত্র একজন নৃত্যশিল্পী হিসাবেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান নি, নৃত্যশিল্পকে করেছেন গভীরভাবে আত্মস্থ।কোলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে এম.এ পাশ করেই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি নাচের প্রতি তাঁর গভীর প্রেম এবং ঞ্জানপিপাসা চরিতার্থ করার তাগিদে তিনি সুদূর তামিলনাড়ুতে পাড়ি দিয়েছেন।সেখানে মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি থেকে ভারতনাট্যম্ বিষয়ে এম.এ পাশ করেন।তাঁর মতে একজন নৃত্যশিল্পীর মাহাত্ম্য শুধুমাত্র মঞ্চে উঠে অঙ্গসঞ্চালনের মধ্যে হয় না।তাঁর মাহাত্ম্য তখনই পরিস্ফুট হয়, যখন নৃত্যের সমস্ত ইতিকথা, তাঁর উৎপত্তিস্থল তাঁর সাথে জড়িত সমস্ত ভাবাবেগ সম্পর্কে শিল্পী অবগত হয়ে তাকে পুরোপুরি আত্মস্হ করতে পারেন।সেই তাড়নাতেই তিনি নিজের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠাতে আগ্রহী হয়েছেন।

তিনি মাদ্রাজে বিশ্ববিখ্যাত নৃত্যশিল্পী ডঃ রামালক্ষ্মীস্বামী এর কাছে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রাচীনযুগের গুরুকুল প্রথাতে ভরতনাট্যম এর পড়াশোনা চালিয়েছেন। একজন বাঙালী কন্যার শাস্ত্রীয় নৃত্যপ্রেম দেখে তিনিও অভিভূত হয়েছিলেন। নিজে বাঙালী হবার সুবাদে তিনি কবিগুরুর নৃত্য সম্বন্ধীয় ভাবাবেগ এর সাথে ভরতনাট্যম্ এর সংমিশ্রণ সর্বসমক্ষে আনতে চাইছেন।শুধুমাত্র একজন সাধারণ নৃত্যশিল্পী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ই নয় তিনি তাঁর প্রতিভার দ্বারা একদিন প্রথম বাঙালী হিসাবে ভারতনাট্যমে জাতীয় সম্মান প্রাপিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

তিনি চেন্নাইতে বেস্ট প্রমিনেন্ট সভাতেও নৃত্যশিল্পী হিসাবে তাঁর পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন এবং বহু পুরস্কারে ও সম্মানিত হয়েছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন সম্প্রতি কবিগুরুর “গীতাঞ্জলি” নায়িকাভাবা বিষয়ে তিনি পি.এইচ.ডি করছেন এবং এই বিষয়েই তিনি আগামীবর্ষে নতুন কাজ আরম্ভ করতে চলেছেন।তিনি চান কবিগুরু রচনাকৃত বিষয়গুলিও তামিলনাড়ু তে “ত্যাগরাজা” “দীক্ষিতা” এর সমতুল্য জনপ্রিয়তা অর্জনে সমর্থ হোক।তিনি পরবর্তীতে কোলকাতাতেও ভালো কাজ পেলে সেটা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।এই বহুপ্রতিভাধারী অগ্নিকন্যা তাঁর নৃত্যশিল্পকে অঙ্কনের ন্যায় রং তুলির সন্নিবেশের মাধ্যমে সংগীতের মূর্ছনায় ভাবাবেগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোলকাতাবাসীরও মন জয় করার আশা রেখেছেন। লেখা:সুমি মন্ডল ছবি:গোপাল দেবনাথ

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *