মুঘল-এ-আজম

আনন্দ সংবাদ:সম্প্রতি নৃত্য উপাসনার ২৭ তম বার্ষিক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসদনের পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ             ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলো । বাংলায় কেন ভারতে এই প্রথম নৃত্যনাট্য রূপে দেখা পেলো নৃত্য উপাসনা নবতম প্রযোজনা “মুঘল-এ-আজম” ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নৃত্য উপাসনার ছাত্রীরা বিভিন্ন সৃজনশীল নৃত্য উপস্থাপনা করেন ।সেলিব্রেশন, তমসা ছাইল, গৌরী এলো ,জাগাও মেরা দেশ, ঢেউ কুচ কুচ প্রভৃতি গানগুলির নৃত্য পরিবেশনা অসাধারণ ।নৃত্যের মধ্যে দিয়ে কোথাও বাংলার উৎসব ,কখনো পরিবেশ দূষণ ,কখনো দেশপ্রেমের মতো বিষয়গুলি সামনেে আসে ।
প্রায় ৪৫০ জন ছাত্রছাত্রী প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্না কমলিনীজি । ছিলেন গুরু প্রদীপ্ত নিয়োগী ও অনুরাধা নিয়োগী ।
দ্বিতীয় পর্বে ছিল এক অনন্যসাধারণ উপস্থাপনা।
সাত দশক আগের সেই দেশ কাঁপানো ছবিটাই যেন মঞ্চে প্রাণ পেলো সেইদিন – সেই যুবক সেলিমের উশৃঙ্খলতা,সেই অপূর্ণ প্রেমের অমরগাঁথা ।সমকালের অন্যতম সেরা কোরিওগ্রাফার কাশ্মীরা সামন্ত প্রজেক্শনের ব্যবহারের মাধ্যমে সেই মুঘল যুগকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন ।পর্দা আর মঞ্চ একই ত্রিমাত্রিক আধার যেন বাস্তব আর পরাবাস্তবের মিলন ঘটিয়েছে ।ক্লাসিকাল এবং কনটেম্পোরারি নৃত্য কম্পোসিশন মাঝেই প্রসেনিয়াম থিয়েটারের মাধুর্য মিলেমিশে গেছে প্রযোজনাটিতে ।নৃত্যনাট্য রঙ্গভূমিতে প্রাণ পায় বিশিষ্ট কিছু শিল্পীর মুন্সিয়ানায় – সেলিমের ভূমিকায় কৌশিক চক্রবর্তী ও আনারকলির ভূমিকায় স্বয়ং কাশ্মীরা এক কথায় অনবদ্য ।তাদের নৃত্য ও অভিনয় মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে দর্শকদের। আকবরের ভূমিকায় শুভাশীষ ভট্যাচার্য ,যোধার ভূমিকায় সুস্মিতা ভট্যাচার্য ,রাজনার্তকী বাহারের ভূমিকায় বিশিষ্ট কথক নৃত্যশিল্পী নন্দিনী সিনহা স্বমহিমায় উপস্থিত ।মঞ্চ অত্যন্ত নাট্যানুগ আলোর ব্যবহারে আলোকশিল্পী দীনেশ পোদ্দার দর্শকদের আনন্দ দেন – চরিত্রের কণ্ঠদানে ডক্টর অরুময় বন্দ্যোপাধ্যায় , সুবীর মন্ডল মাত করেছেন । প্রযোজনাটিতে আশিজন নৃত্য শিল্পীর উপস্থাপনা এক রাজকীয় মাত্রায় পৌঁছে দেয় অনুষ্ঠানটিকে । শিল্প ও সৃজনশীলতার এক মূর্ত উদাহরণ এই প্রযোজনা । তাই অনুষ্ঠান দেখে দর্শকের অভিব্যক্তি – বার বার দেখতে চাই প্রযোজনাটি ।

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *