আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন যুবরাজ

সৌরভ দত্ত : তাঁর জীবনটা হিন্দি সিনেমার চিত্রনাট্যের থেকে কম রোমাঞ্চকর নয়। এই চড়াই তো এই উতরাই। এই সাফল্যের শিখর ছুঁয়েছেন তো এই মুখ থুবড়ে পড়তে হয়েছে হতাশার গভীর খাদে। দীর্ঘ প্রায় সতেরো বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারকে অবশেষে বিদায় জানালেন যুবরাজ সিং।
বাবা যোগরাজ সিংয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রিকেটে হাতেখড়ি। ২০০০ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে যুবরাজের মতোই ভারতীয় দলে প্রবেশ করেছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে একের পর এক নজির গড়েছেন। ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে তখন দুনিয়া কাঁপানো ভারতীয়র নাম যুবরাজ সিং। ফিল্ডিংয়ে তো কিংবদন্তি জন্টি রোডসের সঙ্গেও তুলনা টানা হত তাঁর। কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে যখন নড়বড়ে হয়ে পড়ত ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ, তখন বহুবার ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন যুবি। “যুবরাজ থাকলে ম্যাচ ঠিক বেরিয়ে যাবে।” ভক্তদের মনে এমন বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতে পেরেছিলেন পাঞ্জাব দা পুত্তর। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্টুয়ার্ট ব্রডের ওভারে ছটা ছক্কার নজির থেকে ২০১১ বিশ্বজয়ী ভারতীয় দলের হয়ে টুর্নামেন্ট সেরা হওয়ার স্মৃতিগুলোই যুবরাজকে ক্রিকেটের ইতিহাসে চিররঙিন করে রাখবে। ক্যানসারকে জয় করেও দৃঢ় চিত্তে কামব্যাক করা ভারতীয় অলরাউন্ডারকে মনের মণিকোঠায় চিরস্থায়ী জায়গা দিয়েছেন অনুগামীরা।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নিজের অবসর ঘোষণা করেন যুবি। ক্রিকেট কেরিয়ারের ফ্ল্যাশব্যাক তুলে ধরতে গিয়ে গলা ধরে আসে তাঁর। বলেন, “২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খারাপ পারফর্ম করার পরই বুঝেছিলাম, ক্রিকেট কেরিয়ারটা বোধহয় শেষ হতে চলেছে। তবে তখনও হার মানিনি। পরিশ্রম করে আবার টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নিয়েছিলাম। তবে বুঝেছি এবার সরে দাঁড়ানোর সময় হয়ে গিয়েছে।” ভারতীয় সাপোর্ট স্টাফ, সতীর্থদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি আলাদা করে নাম নিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়েরও। বলেন, “২০০০ সালে আমায় খুঁজে এনে জাতীয় দলে জায়গা করে দিয়েছিলেন সৌরভ। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
৩০৪টি একদিনের ম্যাচে ৮৭০১ রান যুবির ঝুলিতে। যার মধ্যে রয়েছে ১৪টি সেঞ্চুরি। দেশের হয়ে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে। ২০১৭-য় শেষবার ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে দেশের জার্সি গায়ে দেখা গিয়েছিল। অনূর্ধ্ব ১৯, ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ বিশ্বকাপ – ত্রিমুকুট মাথায় নিয়েই বিশ্বকাপের মাঝে প্রিয় বাইশ গজকে আলবিদা জানালেন ল্যান্স আর্মস্ট্রংয়ের ভক্ত। রূপকথার ইতি ঘটল। তাঁর অবসর ঘোষণায় ভারতীয় ক্রিকেটে আরও একটি অধ্যায় শেষ হল। 

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *