অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি “মাতৃরূপেণ”

আনন্দ সংবাদ:ভারতবর্ষ উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে সমগ্র পৃথিবীর কাছে যথেষ্ট সুনামের দাবীদার বর্তমানে। তবু সেই উন্নয়নশীল দেশে পিতা-মাতার সংজ্ঞা, আবেগ অন্য অনেক উন্নত দেশের থেকে বেশী সংবেদনশীল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানের সুস্থ অস্তিত্ব যাপনের ক্ষেত্রে শুধু মাত্র তার পিতৃ পরিচয়ের ভূমিকা সামাজিক ভাবে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। অথচ পিতার অনুপস্থিতিতে একজন মা তার সব শক্তি দিয়ে, সন্তানের বৃদ্ধিতে সমস্ত প্রয়োজনীয় রশদ যুগিয়ে তার সন্তানের সুস্থ আগামীর পরিসর ব্যপ্ত করে। সেই জন্যেই সারদা মা বলে গেছিলেন “মা হওয়া নয় মুখের কথা। প্রসব করলেই হয় না মাতা।” তাঁর মধ্যে দিয়ে সারা পৃথিবী এমন একজন মাকে চিনেছে যিনি নিজে সন্তান প্রসব না করেও শুধু মাত্র স্নেহের আশ্রয় দিয়ে কোটি কোটি ভারতবাসীর থেকে মাতৃসম্মান পেয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁকে আধুনিক পরিভাষায় সিঙ্গেল মাদার বলা যায়? হয়ত যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এত উদারতা কই? তাইতো তাঁকে সবচেয়ে সহজে ঐশ্বরিক বেদী অর্পন করা হয়। অথচ দৈনন্দিন জীবনে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত বর্গে যে সমস্ত মায়েরা সন্তান লালনে কোনো রকম পুরুষের সহযোগীতা পান না, বা চান না, তারা যে তাদের সন্তানকে বীরাঙ্গনার মত লালন করে চলেছেন, ভবিষ্যতের উজ্জ্বল নাগরিক উৎসর্গ করে চলেছেন দেশকে, তাদেরকেই সমাজ সহযোগীতা না করে আরো অসহায়, বিপন্ন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে সেই শিশুটির ওপর দিয়ে সেই যন্ত্রণা ভয়াবহ আকারে বিস্তার লাভ করে।
সমাজের এরকমই একটি মর্মভেদী, সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে পরিচালক অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি “মাতৃরূপেণ”, যা আপামর দর্শকগণকে আবার এক কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।নাম প্রকাশিত হল এই মহালয়ায়। পরিচালকের দ্বিতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আগমনীর অবগাহনের জন্য তিনি সমালোচক মহলে বহুল প্রশংসা অর্জন করেছেন।
অভিনয় করছেন ঊর্বশী সারাওগী, সুমনা চৌধুরী, সৌমিক মৈত্র।কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন রুমেলা।সঙ্গীতের দ্বায়িত্ব সামলাচ্ছেন হিয়া জোয়ারদার।

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *