“অনেক তো নেগেটিভ চরিত্র হলো এবার একটা মেগার নায়িকা করতে চাই”:ইন্দ্রাক্সী

By Ramiz Ali Ahmedহৃদয়হরন বি.এ. পাস’ মেগার দীপিকা অতি পরিচিত মুখ।জি বাংলার রাত ১১ টার স্লটের এই মেগার দর্শকরা যে দীপিকাকে খুব একটা যে পছন্দ করেন তা নয়।এই পছন্দ না করার কারণটা হল দীপিকার কূটকচালি চরিত্র।দীপিকা সবসময় যড়যন্ত্রে ব্যস্ত, সবসময় মানুষকে ক্ষতি করতে ব্যস্ত।তবে বাস্তবে দীপিকা সম্পূর্ণ অন্যরকম চরিত্র।ও হ্যাঁ,দীপিকার আসল নামটাই তো বলা হয়নি।নাম ইন্দ্রাক্সী দে।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই ইন্দ্রাক্সী জানালেন,”আমি শুরু থেকেই নেগেটিভ চরিত্র করছি।চরিত্রগুলোর ডিমান্ড অনুযায়ী অনেক খারাপ কিছু করতে হয়,ভুলভাল কথা বলতে হয়,সবাইকে কষ্ট দিতে হয়,কিন্তু বাস্তবে আমি সম্পূর্ণ উল্টো।আমি খুবই শান্ত,কাউকে একদম দুঃখ দিতে পারিনা।ঝগড়া করা বা কাউকে উল্টোপাল্টা কিছু কিছু বলা এগুলো একদম পারি বা।আমার রিয়েল লাইফ আর রিল লাইফ সম্পূর্ণ আলাদা।”

ইন্দ্রাক্সীর অভিনয়ে আসাটাও হঠাৎ করেই।একটা গল্পের মতোই।ইন্দ্রাক্সী তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী।বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্লাস কিরে বাড়ি ফেরার পথে লিলুয়া স্টেশনে এক ভদ্রলোক ইন্দ্রাক্সীকে জানায়
তিনি একটি শর্টফিল্ম করতে চলেছেন, সেখানে যে চরিত্রটা তিনি ভেবেছেন সেটা ইন্দ্রাক্সীর লুকসের সঙ্গে যায়।
তিনি জানান তাঁর নাম রানা মুখার্জী।সেই ভদ্রলোক তাঁর ঠিকানা দেন যদি রাজি থাকে চরিত্রটা করতে তাহলে যোগাযোগ করতে বলেন।ইন্দ্রাক্সী বাড়িতে কথা বলেন এবং বাবা মায়ের সঙ্গে পরিচালক রানা মুখার্জীর বাড়িতে যান।রানা মুখার্জীর ‘তিন কন্যা’ শর্ট ফিল্মে তিনি অভিনয় করেন।এইভাবেই অপ্রত্যাশিত ভাবেই অভিনয় জগতে প্রবেশ ঘটে যায় ইন্দ্রাক্সীর।এরপর তিনি প্রচুর ব্র্যান্ডেডের মডেল হিসেবে মডেলিং করেন।

এইভাবেই চলছিল।একদিন কালার্স বাংলা চ্যানেল থেকে ইন্দ্রাক্সীর কাছে ফোন আসে অডিশনের জন্য,সেখানে বেশ কয়েকটি অডিশনের মাধ্যমেই ইন্দ্রাক্সী ‘ঝুমুর’মেগায় লিড নেগেটিভের চরিত্রটি পান।এইভাবে টেলিভিশন জগতেও নিজের জায়গা করে নেন ইন্দ্রাক্সী।এরপর তিনি কাজ করেন ‘ভজ গোবিন্দ’ মেগার যে হিন্দি রিমেক হয়েছিল ‘সেই জয় কানাইয়ালাল কী’ তে মালবিকার চরিত্রে।এরপরেই ‘হৃদয়হরণ বি.এ. পাস’-এ দীপিকার চরিত্রে।

ইন্দ্রাক্সীর জন্ম ও বড় হয়ে ওঠাটা জানতে চাইলে,তিনি জানালেন,”আমার জন্ম কাটোয়ায় মামারবাড়িতে।বাবা যেহেতু রেখে চাকুরী করতেন,ট্রান্সফারেবেল জব, তাই বেড়ে ওঠাটা বিভিন্ন জায়গায়।রাঁচি, চিত্তরঞ্জন সহ বিভিন্ন জায়গায়।তারপর হাওড়ায় চলে আসা।হাওড়াতেই আমার পরিবার স্থায়ীভাবে থেকে যায়।হাওড়ার কে বি ফোর্টউইলিয়াম স্কুলিং,শোভাবাজার জয়পুরিয়া কলেজ থেকে থেকে স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর।”

পড়াশুনাতেও ইন্দ্রাক্সী যথেষ্ট মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।কলেজে তিনি টপার,এবং ইউনিভার্সিটিতে সেকেন্ড টপার হয়েছিলেন।

ইন্দ্রাক্সীর বাবা রেলওয়েতে সিনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মা হাউসওয়াইফ এবং দিদি স্কুল শিক্ষকা।পরিবারের সাবাইয়ের কাছ থেকে তিনি সবসময় সাপোর্ট পান।কথায় কথায় তিনি জানালেন,”আমি আজ যতটুকু জায়গায় আজ আসতে পেরেছেন সেটা আমার বাবা মায়ের জন্যই।আরেকজনের নাম করবো যিনি আমার উপর বিশ্বাস রেখে আমাকে এত ভালো ভালো চরিত্রগুলো দিয়েছেন।তিনি আমাদের সকলের প্রিয় স্নেহাশিস চক্রবর্তী।

মেগার পাশপাশি ইন্দ্রাক্সী ‘রাজবাড়ী দ্য মিস্ট্রি’ বলে একটি বাংলা ফিচার এবং ‘স্পর্ধা’ নামে একটি ভোজপুরি ছবিতে অভিনয় করেন।এছাড়াও দশ বারোটার মতো মিউজিক ভিডিও অ্যালবামেও অভিনয় করেছেন।অভিনেত্রী ঘুরতে খুব ভালোবাসেন,ভারতবর্ষের প্রায় সব জায়গায় ঘুরে ফেলেছেন।স্বপ্নের জায়গায় সুইজারল্যান্ড ও প্যারিসে যেতে চান খুব শীঘ্রই।

বাড়ির খাবার অভিনেত্রীর সবসময় প্রিয়।শুটিং-এ বাড়ির খাবারই নিয়ে যান সবসময়।অবসর পেলে অভিনেত্রী গান শুনতে ও মুভি দেখতে ভালোবাসেন।বিয়ের প্রসঙ্গ টানতেই সটান উত্তর,”এখন পুরোপুরি কেরিয়ারে ফোকাসড।এই মুহূর্তে এসব নিয়ে কিছু ভাবছিই না।”

ভবিষ্যতে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানালেন,”অনেক তো নেগেটিভ চরিত্র হলো এবার একটা মেগার নায়িকা করতে চাই।”

Please follow and like us:
0

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *